আইন আদালত ডেস্ক
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুর রহিম ওরফে কাইল্যা মণ্ডল (৫৩) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আব্দুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোছা. রিনাত ফেরদৌস রিনি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন ওরফে জমির মন্ডলের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আব্দুর রহিম শিশুটিকে শসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে একটি নির্জন শসা ক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি রক্তাক্ত ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে কান্নাকাটি করলে বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতে পারে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসায় শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পরদিন ৩০ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় আব্দুর রহিমকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং চিকিৎসকের মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেন। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ দমনে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনবিদরা।