সারাদেশ ডেস্ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধারকৃত এই মাদক চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে একটি কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়। লবণের চালানের আড়ালে এই মাদক কক্সবাজার থেকে ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। দুপুরের দিকে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারকে অনুসরণ করা শুরু করে ডিবি পুলিশ। গাড়িটি মূলত পেছনের একটি পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানকে স্কট বা পাহারা দিয়ে ঢাকার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা পদুয়ারবাজার এলাকায় প্রাইভেটকারটির গতিবিধি রোধ করে এর চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা স্বীকার করেন যে, পেছনে থাকা কাভার্ডভ্যানে বড় একটি মাদকের চালান রয়েছে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ লবণের বস্তা বোঝাই কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। পরে গাড়িটির ভেতরের উপরিভাগে সুকৌশলে তৈরি করা বিশেষ চেম্বার কেটে ১৬টি বড় প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এই প্যাকেটগুলো থেকে গণনা করে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান এবং পাহারা দেওয়া প্রাইভেটকারটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন—কাভার্ডভ্যানের মালিক সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা শিপন শেখ, প্রাইভেটকার চালক রুবেল, গাড়িতে থাকা যাত্রী সোহেল রানা, কাভার্ডভ্যান চালক মোজাহের শেখ এবং হেলপার সুরুজ হোসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় মাদকের বড় বড় চালান সরবরাহ করে আসছিলেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে মাদকের বিস্তার ও চোরাচালান রোধে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা নিয়মিত তল্লাশি ও কঠোর নজরদারি চালিয়ে আসছে। মাদক সিন্ডিকেটের রুট এবং এর পেছনের মূল অর্থদাতাদের চিহ্নিত করতে আটকদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মহাসড়ককে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার ঠেকাতে জেলা পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত মাদক পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করছে। কখনো সবজি, কখনো জরুরি সেবা বা পণ্যবাহী যানবাহনের আড়ালে, আবার কখনো গাড়ির বডিতে বিশেষ চেম্বার তৈরি করে মাদক আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত এই বিশাল চালানের গন্তব্য এবং এর সাথে জড়িত বৃহত্তর চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।