আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন। একে একটি যুগান্তকারী কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখার বিষয়ে এই চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্জন নিশ্চিত করেছে। সামরিক অভিযান ও কূটনীতির সমন্বয়ে এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সামরিক পদক্ষেপ দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হতো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতো। তবে সমঝোতা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে পুনরায় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এর পর থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে বর্তমান স্থিতি (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখবে এবং জাতিসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য বিশেষ ছাড়পত্র বা ওয়েভার জারি করবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালীটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরান এই জলপথ থেকে নৌ-মাইনসহ সমস্ত সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে যুদ্ধপূর্বাবস্থার মতো স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।
এদিকে মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন, সংগ্রহ বা ক্রয় করবে না—এমন আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন সীমান্তসহ সব ফ্রন্টে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জি৭ ভুক্ত দেশের নেতৃবৃন্দ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি বড় ধরনের মন্দা ও অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করবে। চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।