শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর যৌক্তিকতা ও রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সরকারের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এই অভিযানের দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে এই উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়।
ইসরায়েলের সরকারি সূত্রগুলোর মতে, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত ফলাফল যদি আগে থেকে স্পষ্ট থাকত, তবে এই ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত কঠিন হতো। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক চুক্তিটিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ দিনব্যাপী এই অভিযানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধাক্কা।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত এই সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর সামরিক সিদ্ধান্তের পক্ষে অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এক সরকারি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর মাধ্যমে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে ইসরায়েলকে একটি নিশ্চিত পারমাণবিক হুমকি থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় তাঁর সরকার নীতিগত অবস্থানে অবিচল থাকবে বলেও তিনি জানান।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও দেশের সামরিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার সংশয় দূর হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অনিষ্পন্ন এই সামরিক সংঘাতের ফলে কৌশলগতভাবে তেহরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে। একই সাথে, দীর্ঘমেয়াদি কোনো রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এ ধরনের অভিযান ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।