ঝিনাইদহ — জেলা প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ পৌরসভায় একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধনকালে দেশের বাজেট ও নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার কসাইখানা চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে, যেখানে তামাক ও মদের মতো ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে অপপ্রচার বা সমালোচনা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী দেশের যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূলে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের কোনো স্তরে শিথিলতা বা গাফিলতি দেখা দিলে সরাসরি তাকে মুঠোফোনের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সরকার দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পৌরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই আধুনিক কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে পশু জবাই করা হলে মাংসের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ অটুট থাকে। এই প্রকল্পটিকে ঝিনাইদহবাসীর জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কসাইখানা নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালিত লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি) এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)’ কসাইখানার মূল নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রক্রিয়া ও নির্মাণযজ্ঞ শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক এই স্থাপনাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। মোট ৪৯ শতক জমির ওপর এই প্রকল্পটির অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে মূল উৎপাদন প্রক্রিয়া তথা পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থানটি প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত পরিবেশে পশু পরীক্ষা, জবাই এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা রয়েছে, যা স্থানীয় বাজারে মাংসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ
সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা। বক্তারা এই আধুনিক কসাইখানার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।