অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিধি বাড়াতে নতুন করে আরও ১০টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে মানিকগঞ্জসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে রেল সেবা সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণ এবং টঙ্গী-আখাউড়া ও লাকসাম-সিলেট রুটের মিসিং লিংক দূর করে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীতো হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, দেশের সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ও সেবার মান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রেল মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং সেবা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলাকেই রেল যোগাযোগের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নতুন ১০ জেলাকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই সম্প্রসারণে ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও মানিকগঞ্জে কোনো রেল সংযোগ নেই। এই ঘাটতি পূরণে ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে নতুন করে রেললাইন নির্মাণ এবং কমিউটার ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা যেমন— নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী, জয়দেবপুর, নরসিংদী ও মানিকগঞ্জের মানুষ যাতে দিনের কাজ শেষে দ্রুত ও সহজে যাতায়াত করতে পারেন। এই আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি রাজধানীর ওপর আবাসন ও জনসংখ্যার চাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘদিনের আলোচিত ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন প্রকল্পের বিষয়েও অগ্রগতি জানানো হয়। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে বিষয়টি কেবল ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তাগাদা এসেছে। এই কর্ড লাইনটি নির্মিত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেল পথের দূরত্ব প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার কমে আসবে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে। এছাড়া আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেললাইন প্রকল্পের পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মিটারগেজ অংশগুলোকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের কাজও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
রেল খাতের প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে নতুন কৌশল অবলম্বনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এই সংবাদ সম্মেলনে। অতীতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে রেললাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) বা বগি (ক্যারেজ) সংকটের কারণে ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে এখন থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নেওয়া হবে না। যেকোনো নতুন রেললাইনের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাসের সময়ই লাইন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও বগি সংগ্রহের বিষয়টি একই প্রকল্পের আওতাভুক্ত থাকবে। এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করবে এবং প্রকল্পের সুফল দ্রুত জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে।