অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দিনগত রাতে থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, ঢাকা মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামি, মাদক কারবারি, জুয়াড়ি এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ী ও এর আশপাশের এলাকায় কিছু সুনির্দিষ্ট অপরাধপ্রবণ পকেট গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পুলিশ এই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত তালিকায় গ্রেফতারকৃতদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—মো. আলফাজ হোসেন খান (২৫), মৌসুমী আক্তার (৩০), রুপা (৩২), মো. জাহিদ হাসান (৩২), রিফাত (২৫), আকবর (১৯), মো. মিঠু শিকদার (২৪), মো. সোহেল (৩৩), তাইজুল ওরফে তানিম (২২), নাহিদ (১৯), মো. সাগর (১৯), মো. হৃদয় (২২), মো. মামুন তালুকদার (২১), মো. আশিকুর রহমান (৩৩), ফয়সাল আহম্মেদ রাব্বী (২৫), মো. শান্ত (২১), মো. হোসেন (১৯), রিফাত (২০), মো.摆ন (৩২), মেহেদী হাসান (২৩), মো. রিপন হাওলাদার, মো. আনিছুর রহমান (৫০), মো. সাইফুল ইসলাম (৪৮), মো. সোহেল (৩৮), মো. সুমন হাওলদার (৩৪), মো. লালন (৪৫), মো. বাবুল (৫০), মো. রওশন আলী (৪৯), মো. আশরাফ উদ্দিন (৪৬), মো. বশির আহম্মেদ (৪২), রিপন (৪৫), মো. রনি (২৩), ইসমাইল হোসেন (২৩), মো. সোহেল (২০), রেশমা বেগম (২৯), শিমা বেগম (৩৯), ফাহিমা বেগম (১৯), নুসরাত জাহান সুমনা (২৯), শানারা প্রকাশ সাইরু (৩০), ঝর্ণা আক্তার (১৯), সুমি আক্তার (৩৫), জান্নাতুল খানম (২৩), মনিকা আক্তার পারুল (১৮), খাদিজা আক্তার (১৮), সাব্বির হোসেন (১৯) ও দিয়া মিন মনিকা (১৮)।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রাবাড়ী এলাকাটি ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার হওয়ায় অপরাধীরা এই অঞ্চলকে ট্রানজিট বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং মাদক কেনাবেচার কিছু অভিযোগ আসছিল। পুলিশের এই ধরনের আকস্মিক ও সমন্বিত অভিযান অপরাধ চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের ফলে স্থানীয় স্তরে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, মহানগরে নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে এই ধরনের বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো নির্দিষ্ট চক্র বা অপরাধী গোষ্ঠী যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, সেজন্য পুলিশি নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।