আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্জিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। বেইজিং এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক’ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে চুক্তিকে স্বাগত জানালেও এর স্থায়িত্ব ও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে বেইজিং এখনই অতি-উত্সাহী না হয়ে বেশ সতর্কতা বজায় রাখছে। গত রবিবার (১৪ জুন) পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত অবসানে ওয়াশিংটন ও তেহরান এই ঐতিহাসিক প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও সংঘাত নিরসনে বেইজিংয়ের নিজস্ব অবস্থান ও নীতিগত ভূমিকার সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত সংগতিপূর্ণ। সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন সব ধরনের শত্রুতা ও যুদ্ধাবসান, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং অংশীজনদের আলোচনায় ফিরে আসার পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো অবস্থান বজায় রেখেছিল। ফলে দুই বৈরী দেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক সমঝোতা চীনের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় ধরনের নৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই চুক্তিকে সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক শুরু হিসেবে বিবেচনা করলেও বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বেশ সতর্ক। এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চুক্তির অভ্যন্তরে থাকা বেশ কিছু অস্পষ্টতা ও অমীমাংসিত প্রায়োগিক জটিলতা। চুক্তির অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এখনো অস্পষ্ট এবং দীর্ঘদিনের দ্বিমত ও মতপার্থক্য পুরোপুরি নিরসন করা এখনো বাকি রয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরও এর জটিল প্রযুক্তিগত, আইনি ও কৌশলগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আরো কমপক্ষে ৬০ দিন সময় লাগবে। ফলে বেইজিং একে এখনই সংকটের চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাপ্তি বলতে নারাজ।
অন্য দিকে, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের দীর্ঘমেয়াদি ভূকৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। বেইজিং এই নতুন কূটনৈতিক পথকে সাধুবাদ জানালেও নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর চীনের যে ব্যাপক জ্বালানি নির্ভরতা রয়েছে, তা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে চীন পিছু হটবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বেইজিং বিকল্প রুটের উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও কাতারের দীর্ঘ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত রবিবার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।