1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
খুলনায় মসজিদে মুসল্লিদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়নি, চিকিৎসাধীন ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে আরও ২৭ জনের মৃত্যু, মোট নিহতের সংখ্যা পৌনে চার হাজার পার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে শামার জোসেফের রেকর্ড গড়া বোলিং, স্পর্শ করলেন রাশিদ খানকে ১১ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদানে আয়কর রেয়াত সুবিধা ঘোষণা ২৭ জুলাই ফের চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট পেঁয়াজ ও পাট বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশ, জুলাইয়ের শেষে মিলবে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে উচ্চপর্যায়ের সভা রেকর্ড স্বাস্থ্য বাজেটের সুফল পেতে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিশ্বকাপ ফুটবলে ক্রিকেটের ‘স্নিকো’ প্রযুক্তির ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি, মেহর নিউজে ১৪ দফা প্রকাশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা অবসান ও যুদ্ধ বন্ধে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার ভোররাতে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট ধারাগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি।

দুই দেশের এই সমঝোতার পরপরই ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকে থাকা সম্ভাব্য ১৪টি প্রধান বিষয় প্রকাশ করেছে। এই খসড়া প্রস্তাবনার মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— লেবাননসহ সব সামরিক ফ্রন্টে একটি স্থায়ী ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত। খসড়া অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। একই সময়সীমার মধ্যে ইরান সরকারের ব্যবস্থাপনায় হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চল থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার এবং ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে তাদের আগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে। এর বিপরীতে ওয়াশিংটন ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নতুন কোনো মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

মেহর নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবরুদ্ধ থাকা ইরানের আর্থিক তহবিলের অন্তত অর্ধেক অংশ ছাড় না করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত মূল বিষয়গুলোর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন আলোচনা শুরু হবে না।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে জানান, তিনি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছেন এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে আরোপিত অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে জ্বালানি সচল করে তেল পরিবহন স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।

এই কূটনৈতিক সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে ইসরায়েল লেবাননে তাদের চলমান সামরিক অভিযান স্থগিত করতে অথবা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হতে পারে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহল ও ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে তাদের দেশের জন্য একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছে, যার ফলে মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026