আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য ঘোষিত সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। সোমবার (১৫ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এরদোয়ান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব সম্প্রদায় এই ধরণের একটি কূটনৈতিক অগ্রগতির অপেক্ষায় ছিল। এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, নিরাপত্তা ও একটি স্থিতিশীল পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথকে আরও সুগম করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে এই সমঝোতা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের পূর্ববর্তী সময়ে এমন কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য, নীতি বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত হবে না, যা নতুন করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে পারে এমন সম্ভাব্য সব ধরনের নাশকতা বা নেতিবাচক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো আন্তর্জাতিক বা বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে তুরস্ক সবসময় সমর্থন দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখবে। আঙ্কারা মনে করে, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংকটের সমাধান সম্ভব এবং এই চুক্তি তারই একটি বড় প্রমাণ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের যে অচলাবস্থা ছিল, তা নিরসনে এই চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তুরস্কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির এই অকুণ্ঠ সমর্থন চুক্তিটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।