খেলাধূলা ডেস্ক
স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক অফ-ফর্মের কারণে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর ঢালাও সমালোচনাকে অন্যায্য ও অতিমাত্রার বলে অভিহিত করেছেন তার জাতীয় দলের সতীর্থ উসমান দেম্বেলে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) এই ফরোয়ার্ড মনে করেন, একজন বিশ্বমানের ফুটবলার হওয়া সত্ত্বেও এমবাপ্পেকে নিয়ে প্রতিনিয়ত যে ধরনের নেতিবাচক চর্চা হচ্ছে, তা সাধারণ মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
২০২৪ সালে ফ্রি ট্রান্সফারে ফরাসি ক্লাব পিএসজি ছেড়ে স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আসার পর থেকেই নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা সংগ্রাম করতে হচ্ছে এই তারকা স্ট্রাইকারকে। রিয়াল মাদ্রিদের আশানুরূপ পারফরম্যান্স না হওয়ায় ঘরের মাঠের সমর্থকদের একাংশের কাছ থেকে দুয়োও শুনতে হয়েছে তাকে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার ক্লাব ছাড়ার দাবিতে গণ-স্বাক্ষর সংগ্রহের মতো ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এই একই সময়ে এমবাপ্পের সাবেক ক্লাব পিএসজি ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখেছে, যার বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলার রূপ ফিরে পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
এমবাপ্পের ওপর চলমান এই মনস্তাত্ত্বিক ও পারিপার্শ্বিক চাপ নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যমে কথা বলেন উসমান দেম্বেলে। তিনি জানান, কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেই তাকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এই ধরনের অতিরিক্ত মাতামাতি করা হচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন এবং সাধারণ আচরণকেও যেভাবে আতশিকাচের নিচে রেখে বিচার করা হয়, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেম্বেলে উল্লেখ করেন, দিনশেষে একজন ফুটবলারও সাধারণ মানুষ এবং তারও ফর্মের উত্থান-পতন থাকতে পারে। ফরাসি জাতীয় দলে এমবাপ্পের অবদান এবং নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি অবিলম্বে এই ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এদিকে ফরাসি ফুটবল মহলে খেলোয়াড়দের ফর্মের পাশাপাশি আলোচনা চলছে জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের পর বর্তমান প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের দায়িত্ব ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সফল কোচ ও ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
এই বিষয়ে দেম্বেলে বর্তমান কোচ দেশমের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জিদানের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিদান যদি কখনো ফরাসি দলের ডাগআউটের দায়িত্ব নেন, তবে দলের সাফল্যের ধারা আরও বেগবান হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রাশিয়ার মাটিতে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ে দেম্বেলে ও এমবাপ্পে উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করলেও রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ফরাসিদের। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ট্রফি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে ফ্রান্স দল। আগামী মঙ্গলবার সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।