সারাদেশ ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ডভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হবে, সেই ওয়ার্ডের সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ও মশার উপদ্রব সবচেয়ে কম থাকবে এবং মশক নিধনে কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান হবে, সেই ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করা হবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের পঞ্চম তলার সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গৃহীত বছরব্যাপী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডের মাঝে ফগার মেশিন বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং ডা. শেখ মোস্তফা আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অন্যান্যদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, ২৭টি ওয়ার্ডের সচিব ও সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে আরও গতিশীল হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শুধু প্রথাগত মশক নিধন কার্যক্রম বা ওষুধ ছিটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত নিবিড় নজরদারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সমন্বিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই বহন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না।
মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের গুণগত মান ও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও কড়া নির্দেশনা দেন প্রশাসক। তিনি উল্লেখ করেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা মশা নিধনের ওষুধ সম্পূর্ণ উন্নতমানের এবং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত। এই ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট করতে এর সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান বা পানি মিশিয়ে কেউ যদি অসাধু উপায়ে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সরঞ্জামের অপব্যবহার বা মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আপস করবে না বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাসিকের মোট ২৭টি ওয়ার্ডের চাহিদা মেটাতে প্রথম ধাপে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১৬টি ফগার মেশিন বিতরণ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৬টি ফগার মেশিন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই ধাপ মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩২টি আধুনিক ফগার মেশিন ওয়ার্ড পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ওয়ার্ডেও ফগার মেশিনসহ মশক নিধনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে বলে জানানো হয়।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সারা দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানো কার্যক্রমের পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল যেমন— জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবন, ডোবা-নালা চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করার ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে। এর পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাসিক প্রশাসক নগরবাসীকেও এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদবাগান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানান, যাতে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না পারে। জনসচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার সমন্বয়েই নারায়ণগঞ্জকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।