অপরাধ ডেস্ক
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে দেওয়া দুই আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে এই মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি এবং আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে গলায় ফাঁস বা শ্বাসরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ঘটনার দিন রাতে ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদ পেরিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সিদ্ধার্থ দাস ওই শিক্ষকের বাড়ির পূর্বপরিচিত ছিলেন এবং তাদের যাতায়াত ছিল। জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন ভোরে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দেন। পরে মানসম্মানের ভয়ে এবং বিষয়টি জানাজানির আশঙ্কায় আসামিরা গামছা পেঁচিয়ে শিক্ষককে হত্যা করেন।
শব্দ শুনে নিহতের স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে উপস্থিত হলে আসামিরা তাদেরও গলা চেপে ও রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিচতলায় গিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়। এ সময় ঘুম থেকে জেগে ওঠা পরিবারের আরেক সদস্য ছোট শিশুটিও সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও গলা টিপে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে আসামিরা।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান। পরে লুট করা স্বর্ণালংকার স্থানীয় একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত পলাতক ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং খুব দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।