অপরাধ ডেস্ক
নাটোরে বিশেষ কৌশলে পায়ুপথে হেরোইন বহনের সময় ১০৫ গ্রাম মাদকদ্রব্যসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত বুধবার রাতে নাটোর সদর থানাধীন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বড়গাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিনব কায়দায় মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাটি।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আলিপুর মহিষালবাড়ী এলাকার মো. আকতারের ছেলে মো. সাকিবুর রহমান সাকিব (৩৮) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর জোরপুকুরিয়া এলাকার বদিউজ্জামান আকন্দের ছেলে মো. মিন্টু আকন্দ (৪৩)।
র্যাব-৫, সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছা বড়মোড় থেকে ছোটমোড়গামী পাকা সড়কের আসাদ কম্পিউটার দোকানের সামনে একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তির গতিবিধি অস্বাভাবিক ঠেকলে র্যাব সদস্যরা তাদের আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়া গেলে তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সাকিবুর রহমান সাকিব স্বীকার করেন যে তিনি নিজের পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে নিষিদ্ধঘোষিত হেরোইন লুকিয়ে বহন করছেন। পরবর্তীতে স্থানীয় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার পায়ুপথ থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত সাকিবুর রহমান রাজশাহীর সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন কায়দায় তা দেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতেন। ঘটনার দিন তিনি ‘রনি’ নামের এক স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এই চালান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে এসব হেরোইন নাটোর এলাকার আরেক মাদক কারবারি ও মধ্যস্থতাকারী মিন্টু আকন্দের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। মিন্টু আকন্দ এই চালান গ্রহণ করে তা স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক পাচারের ক্ষেত্রে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে চক্রগুলো। তল্লাশি চৌকি বা সাধারণ নজরদারি এড়াতে মানবদেহের অভ্যন্তরে বা শরীরের বিভিন্ন গোপনাঙ্গে মাদক বহনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে বাহকরা। এ ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
উদ্ধারকৃত হেরোইনসহ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।