আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যৌন অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৯ জুন) আইসিসির গভর্নিং বডি বা পরিচালনাকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিসেবা কার্যালয় (ওআইওএস) কর্তৃক পরিচালিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইসিসির পরিচালনাকারী ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধান প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের একটি অ্যাড হক প্যানেলের আইনি পরামর্শ এবং উভয় পক্ষের লিখিত উপস্থাপনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পরই এই সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আইসিসির অভ্যন্তরীণ নীতিমালার কারণে এই তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
আইসিসির বিধিমালা অনুযায়ী, তদন্ত শেষ হওয়ার পর করিম খানকে আদালতের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের মুখোমুখি করা হবে। এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ এবং বিস্তারিত আলোচনার লক্ষ্যে ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে খুব দ্রুত একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইসিসি ব্যুরো জোর দিয়ে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত সব ধরনের নথিপত্র সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অধিকার, গোপনীয়তা ও চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০২১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে ৯ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খান। তার এই সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাটি বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থায় এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনের পর বিশ্বজুড়ে করিম খানকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, করিম খানের মতো একজন শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ আইসিসির প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রমাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ঘটনা বিশ্বমঞ্চে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা ধীর করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওআইওএস-এর চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এই শীর্ষ কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ।