নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. রিয়াজ ও আল আমিন।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের পৃথক স্থান থেকে রিয়াজ ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ এবং এর সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে, গত সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সম্মুখভাগের একটি গলিতে বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে স্থানীয় একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। নিহতের ভাগ্নে মো. মোবারক হোসেন আকাশ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন যুবক পূর্ব শত্রুতা বা কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করে। এই ঘটনার পর মোবারক তার মামা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন।
পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে ওই পূর্ববর্তী মারামারির ঘটনাটি মীমাংসার উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশি সমাধান প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে উপস্থিত যুবকদের সাথে বিল্লাল হোসেনের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও তর্কাতর্কি শুরু হয়। বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে প্রতিপক্ষের কয়েকজন আচমকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিল্লাল হোসেনের বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। বুক ও পাজরে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। ঘটনার পর পরই হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
রমনা থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে গ্রেপ্তারকৃত দুজনসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীর শান্তিনগর, মৌচাক ও মালিবাগ এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৌচাক ও আনারকলি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই এই ঘটনার সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।