খেলাধূলা ডেস্ক
উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০১৫ সালের একটি দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফিফা এবং এর বর্তমান সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (উয়েফা) সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনি। এই আইনি পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্রান্সের প্যারিসে দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে ফ্রান্সের সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, সংস্থার সাবেক আইনি পরিচালক মার্কো ভিলিজার ও সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান দোমেনিকো স্কালার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মামলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। এর পাশাপাশি ফিফার বিরুদ্ধে একটি পৃথক দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছেন তিনি। প্লাতিনির অভিযোগ, এক দশকেরও বেশি সময় আগে ফিফা সভাপতি পদে তাঁর নির্বাচিত হওয়া আটকাতে সংস্থার অভ্যন্তরে বিভিন্ন কূটকৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। এই প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণে ফিফার কাছ থেকে পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ফ্রান্সের সাবেক এই অধিনায়ক।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের শেষ দিকে, যখন ফিফার পক্ষ থেকে প্লাতিনিকে ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (তৎকালীন হিসাবে প্রায় ২৫ লাখ ১০ হাজার ডলার) প্রদানের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। ২০১১ সালে ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার এই অর্থ প্রদানের অনুমোদন দিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফার নৈতিকতা কমিটি প্লাতিনিকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে প্লাতিনি ফিফা সভাপতি হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে যান, যা তাঁর অধীনে উয়েফার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য ২০১৬ সালের শুরুতে ফিফা সভাপতি হওয়ার পথ সুগম করে দেয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সুইজারল্যান্ডের একটি ফেডারেল ফৌজদারি আপিল আদালত মিশেল প্লাতিনি ও সেপ ব্ল্যাটারকে চূড়ান্তভাবে খালাস প্রদান করেন। আদালতের রায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা একই বছরের সেপ্টেম্বরে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। আদালত থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরই ফ্রান্সে এই নতুন আইনি পদক্ষেপ নিলেন প্লাতিনি। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার দাবি করেছেন, তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে ফিফা প্রধান হওয়া থেকে বিরত রাখতেই তৎকালীন সময়ে এই মামলাটি সাজানো হয়েছিল।
ফ্রান্সে দায়ের করা এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে ফরাসি তদন্তকারীদের ফিফা কর্মকর্তাদের তৎকালীন আচরণ খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বের মূল ফৌজদারি তদন্তের সময় সুইজারল্যান্ডের প্রসিকিউটররা ফিফা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো গোপন আঁতাত করেছিলেন কি না, তা–ও খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছে। অবশ্য ২০১৫ সালের সেই ঘটনার তদন্ত ও তা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজেদের কোনো অন্যায় বা অপকর্মের কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে ফিফা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে এই মামলার বিষয়ে ফিফার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।