জাতীয় ডেস্ক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে যেকেউ অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এই কথা জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা অরাজনৈতিকভাবে সম্পন্ন হবে। দলীয় পরিচয় ছাড়া যে কেউ ব্যক্তিগত যোগ্যতায় ও পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করা হবে না। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকায়, দলটির কোনো দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। ব্যক্তিগতভাবে যে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি অধিকার পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। বিশেষ করে তিস্তা নদী অববাহিকার পানি সংকট নিরসনে একটি বড় মেগা প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজের মতো করে এবার তিস্তা নদীতেও একটি বড় ব্যারেজ বা জলাধার (রিজার্ভার) নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বর্ষা মৌসুমে ভারত থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানি এই ব্যারেজের মাধ্যমে ধরে রাখা হবে, যা পরবর্তী সময়ে তীব্র শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে ও পানির ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা যাবে।
এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ও অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা জানান, তিস্তা এলাকায় ব্যারেজ কিংবা রিজার্ভার নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকেই বহন করার সক্ষমতা রাখে। তবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যদি অন্য কোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রযুক্তিগত কিংবা আর্থিক সহযোগিতা করতে চায়, তবে সেই সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নির্দলীয় করার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে। অন্যদিকে, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক জটিলতার মুখে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের এই পরিকল্পনা দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হতে পারে।