1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫১১, মামলা ৪৯টি জুলাইয়ে ৪৪১ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৮, শীর্ষে মোটরসাইকেল ভানুয়াতুতে ৬ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি হয়নি সুনামি সতর্কতা সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মৃত্যু চলতি অর্থবছর থেকেই কার্যকর হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে সহায়ক পরিবেশ ও প্রত্যর্পণ চুক্তির বাস্তবায়নের আহ্বান ঢাকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা ইসির অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, চার সেশন হাতে রেখে ৯ উইকেটে পরাজিত স্বাগতিকরা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে জাতীয় দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ঘোষণা ইরানের, শর্ত নির্ধারণে ভিন্ন অবস্থান ওমানের

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৪৪ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ফিসহ বিভিন্ন শর্ত আরোপের বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে কৌশলগত মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানিয়েছেন, প্রণালিটি ব্যবহারের শর্ত এবং ট্রানজিট ফি নির্ধারণের বিষয়টি ইরান ও ওমান যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। অন্যদিকে, ওমান আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এককভাবে কোনো টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করেছে।

সম্প্রতি রুশ গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ইরান ও ওমান যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর দাবি, এই ফি মূলত জাহাজ চলাচলের জন্য প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে নেওয়া হবে। তবে আন্তর্জাতিক এই নৌপথে নতুন করে কোনো টোল বা ফি আরোপের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বিমান হামলাসহ ওই অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো ভূমিকা নেই। ইরানি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত জালালি স্পষ্ট করেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যকার এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপ অংশীদার নয়।

এদিকে, হরমুজ প্রণালির যৌথ তত্ত্বাবধায়ক এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত ওমান এই সংকটে ভিন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত তালাল বিন সুলাইমান আল-রাহবি ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ওমান হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো টোল ব্যবস্থা চালুর পক্ষে নয়। ওমান সরকার আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার নীতিকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে।

ওমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে তারা কেবল এমন একটি ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে, যা প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ করার পরিকল্পনা রয়েছে মাস্কাটের। ঐতিহ্যগতভাবেই ওমান এই অঞ্চলে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান সংকটেও দেশটি একদিকে যেমন ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার প্রবণতার সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপেরও নিন্দা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হলেও, ইরান ও ওমানের মধ্যকার নীতিগত পার্থক্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর আপত্তি এই জলপথের স্থায়ী স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের লঙ্ঘন না করে কীভাবে এই সংকটের সমাধান হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026