ক্রীড়া ডেস্ক
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির আভাস মিলেছে। দলের তারকা ফরোয়ার্ড ও ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা নেইমারের কাফ ইনজুরি (পেশীর চোট) থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। সাম্প্রতিক এক মেডিকেল স্ক্যানের পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে মাংসপেশীর চোটের কারণে দলের প্রধান এই তারকা পানামা ও মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে অংশ নিতে পারেননি।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত একটি স্ক্যানে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের পেশী ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘গ্রেড টু’ মাত্রার ইনজুরি হিসেবে চিহ্নিত। এই ধরনের চোটের কারণে সাধারণত খেলোয়াড়দের দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হয়। নেইমারের শারীরিক অবস্থা পুনর্মূল্যায়নের জন্য গত সোমবার পুনরায় তার মেডিকেল স্ক্যান করানো হয়। নতুন এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই সিবিএফ নেইমারের মাঠে ফেরার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাদের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, নতুন পরীক্ষায় নেইমারের চিকিৎসায় প্রত্যাশিত সীমার মধ্যে ভালো অগ্রগতি দেখা গেছে। তিনি বর্তমানে ব্রাজিল জাতীয় দলের মেডিকেল স্টাফদের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্বাসন এবং শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার এই আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়াটি প্রগতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর প্রাক্কালে নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী খেলোয়াড়ের ইনজুরি ব্রাজিল দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচকে কেন্দ্র করে দলের আক্রমণভাগ সাজানোর ক্ষেত্রে প্রধান কোচের অন্যতম ভরসা নেইমার। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তার অনুপস্থিতি দলের সার্বিক কম্বিনেশনে কিছুটা প্রভাব ফেললেও, মেডিকেল বোর্ডের বর্তমান মূল্যায়ন দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায়, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ ফিট করে তোলার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ম্যাচের আগেই যদি নেইমার পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পান, তবে তা টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের শক্তিশালী শুরুর সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে জাতীয় দলের মেডিকেল টিম তার প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো ছাড়াই তাকে শতভাগ ম্যাচ-ফিট হিসেবে মাঠে নামানো যায়।