অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় একটি সালিশি বৈঠক চলাকালে ছুরিকাঘাতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত মো. বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য ছিলেন।
সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার হাতিরঝিলের বাগানবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন এবং মালিবাগ এলাকায় তার একটি সিমেন্টের ব্যবসা ছিল বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে নিহতের ভাগনে মো. মোবারক হোসেন আকাশকে কয়েকজন যুবক মারধর করে। আকাশ বিষয়টি তার মামা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে মারধরের ওই ঘটনাটি মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সালিশি বৈঠক চলাকালে উপস্থিত যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু এবং রমনা থানার সাধারণ সম্পাদক লুৎফরের সঙ্গে বিল্লাল হোসেনের তীব্র বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এই বাদানুবাদের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বিল্লাল হোসেনের বুকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে অনতিবিলম্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের বুকে গভীর ক্ষত চিহ্নের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য রমনা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীর রমনা ও মালিবাগ এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল অপরাধীদের শনাক্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে। কারা এই ছুরিকাঘাতের সাথে সরাসরি জড়িত এবং কার নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।