আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানবিরোধী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে বারবার যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। যুদ্ধ ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরান এই সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন ভালো করেই জানে যে যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার খরচ অনেক কম, তাই পুনরায় আগ্রাসন চালালে ওয়াশিংটন এক অন্ধকার ও অন্তহীন সুড়ঙ্গে প্রবেশ করবে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার জবাবে তেহরান ওই অঞ্চলের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০টি পাল্টা আঘাত হানে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠককে ‘সম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করে খামেনির এই উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাস দূর করতে হলে ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইরান তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির স্পষ্ট দাবি জানালেও মার্কিন পক্ষ থেকে অস্পষ্ট জবাব আসছে। মূলত এই সম্পদ ব্যবস্থার প্রক্রিয়াই হবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতার ন্যূনতম পরীক্ষা।
পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে রেজায়ি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তেহরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ও পরমাণু অস্ত্র অসংযুক্তি চুক্তি (এনপিটি) মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে একতরফাভাবে বের হয়ে গিয়েছিল, তাই তাদের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে ইরানের আস্থা নেই এবং বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই জলপথ বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ হলেও সেখানে কোনো বহিরাগত সামরিক মোতায়েন করা হলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। ওমান ও ইরানের যৌথ জলসীমার অংশ হওয়ায় সেখানে পরিবেশ ও ট্রানজিট ফি আদায়ের আইনি অধিকার তাদের রয়েছে।
কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রেজায়ি স্পষ্ট করেন, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কেবল কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছিল। প্রতিবেশী কিছু দেশ শত্রুপক্ষকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিলেও ইরান কেবল মার্কিন স্বার্থকে নিশানা করেছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে প্রচলিত যুদ্ধের যুগ শেষ এবং সৃজনশীল অসম যুদ্ধই (অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার) বেশি কার্যকর। ইরানের সামরিক শক্তি কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তাদের স্থল বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যেকোনো স্থল অভিযান মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।