1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি নির্বাচন আগামীকাল; ১৫ পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঢাকা দক্ষিণ সিটির নাগরিক সমস্যা সমাধানে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘দক্ষিণের জানালা’র যাত্রা শুরু জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএসটিআইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ সুদানে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প ১৫ বছর পর ভারতের মাটিতে দুই প্রধান স্পিনার ছাড়া টেস্ট ম্যাচ শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন, গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে বড় রদবদল, নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার, বাদ পড়লেন সূর্যকুমার যাদব

ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার প্রক্রিয়া জোরদারে নতুন নীতিতে একমত ইইউ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কঠোর করতে একটি নতুন নীতিমালায় একমত হয়েছেন জোটের নেতারা। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া কিংবা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের ইউরোপ থেকে সরাসরি নিজ দেশে অথবা ইউরোপের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে স্থাপিত বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে (রিটার্ন হাব) পাঠানোর আইনি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশগুলোয় অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে ইউরোপে বসবাসরত অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ওপর বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর এই নতুন অভিবাসন নীতিতে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইউরোপে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়ের অভাবে তাদের একটি বড় অংশ বাস্তবে নিজ দেশে ফিরে যায় না। এই বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে শতভাগ কার্যকর করতেই মূলত নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে কিংবা ইউরোপে থাকার বৈধ অনুমতি না থাকলে, সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে কেবল তার নিজ দেশেই নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে বিশেষভাবে নির্মিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা যাবে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

এ ছাড়া নতুন এই নীতিমালার অধীনে ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত হবে। এর ফলে, কোনো অভিবাসী একটি দেশ থেকে বহিষ্কারের আদেশ পেয়ে অন্য দেশে গিয়ে আত্মগোপন বা নতুন করে আশ্রয় আবেদনের মাধ্যমে বহিষ্কার এড়ানোর যে সুযোগ পেতেন, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এক দেশের বহিষ্কারাদেশ পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে একযোগে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

ইউরোপের এই নীতিগত পরিবর্তনকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোয় অভিবাসন ইস্যুটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ডানপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর রাজনৈতিক চাপ এবং জনমতের কারণে ইউরোপীয় নেতারা অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে এই অভিন্ন ও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বৈধভাবে কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও শিক্ষার সাথে যুক্ত থাকলেও, একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন কিংবা তাদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ধীন রয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যাদের আশ্রয় আবেদন ইতিমধ্যে নাকচ হয়েছে বা যাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই, তারা দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও আটকের ঝুঁকিতে পড়বেন।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নতুন উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, ইউরোপের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র বা ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। এই ব্যবস্থার ফলে আশ্রয়প্রার্থীরা উপযুক্ত আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তবে মানবাধিকার কর্মীদের এই উদ্বেগ খারিজ করে ইউরোপীয় কমিশন দাবি করেছে, যাদের ইউরোপে থাকার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতেই এই প্রশাসনিক সংস্কার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিমালাটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিকভাবে ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। অনিয়মিত অভিবাসীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন কার্যক্রম অনেক গুণ জোরদার হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি একটি বড় সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব প্রবাসীর কাগজপত্র বা বৈধতার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তাদের অবিলম্বে স্থানীয় আইনি সহায়তা নেওয়া এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজেদের অবস্থান নিয়মিতকরণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026