আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের এজলাসে মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই স্পর্শকাতর মামলায় অপরাধ প্রমাণে প্রত্যক্ষদর্শী, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যাদের সাক্ষ্য পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করা হবে।
এর আগে গতকাল সোমবার (১ জুন) মামলার অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেম) শুনানি শেষ করে আদালত আজ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। আদালত আসামিদের আবেদন নাকচ করে দিয়ে যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আজ সকালে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নিহত শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা ঘটনার দিনের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে তার সন্তানকে অমানুষিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রার্থনা করেন। মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, পল্লবীর একটি আবাসিক এলাকায় সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় পুলিশ দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
আইনজীবী ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই মামলায় ফরেনসিক ও মেডিকেল প্রতিবেদনকে অন্যতম প্রধান আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে মামলাটিকে যুক্তিতর্কের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলাটি পরিচালনার কথা উল্লেখ করেছেন।
রাজধানীর এই আলোচিত মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোও গভীর নজর রাখছে। মামলার বাদীপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার রায় স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হবে, যা সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে। আদালত আগামী কার্যদিবসগুলোতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের উপস্থিত নিশ্চিত করে ধারাবাহিক শুনানি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।