আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকা: বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামীকাল ১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। ৩১ মে সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বর্বরোচিত। সরকার এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে। যথাযথ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল থেকে আদালতে এর আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে। সরকার আশা করছে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন, যা সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
একই অনুষ্ঠানে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অন্তুর্ভুক্তির জন্য বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিনিধির নাম পাওয়া যায়নি। সরকার একটি অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজনীন সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও নামের জন্য অপেক্ষা করছে। দ্রুতই তারা নাম জমা দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়া দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এই সুপারিশগুলোর আইনি ও প্রশাসনিক দিকগুলো বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূরীকরণে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী স্থানীয় উপকারভোগীদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।