আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় একটি অবাধ ও সুডৌল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা এডমান্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়া। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিজেকে প্রকৃত বিজয়ী দাবি করা এই সাবেক কূটনীতিক স্পেনে নির্বাসিত অবস্থা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান। গঞ্জালেজের এই ঘোষণা দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক মহলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’-এর মাধ্যমে দীর্ঘকালীন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক উত্তরণের দাবি নতুন মাত্রা পায়। মাদুরোকে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশটির শাসনভার পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, যিনি মাদুরো সরকারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে রদ্রিগেজ পুনরায় নির্বাচিত হলেও বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ ওই নির্বাচনকে কারচুপিপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন রদ্রিগেজ সরকারের সঙ্গে খনিজ তেল ও দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত চুক্তি বজায় রেখে সমঝোতার নীতি অবলম্বন করছে।
পানামায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক শক্তির একীভূত হওয়ার কথা উল্লেখ করে গঞ্জালেজ উরুতিয়া বলেন, বিরোধী দলগুলো দেশের স্বাধীনতা ও সত্যিকারের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একক রূপরেখা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নোবেল বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে গঞ্জালেজের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। পানামায় অবস্থানরত মাচাদো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে একটি পদ্ধতিগত ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে আলোচনা এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোকে আইনিভাবে অযোগ্য ঘোষণার পর শেষ মুহূর্তে গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে বিরোধী দলের একক প্রার্থী করা হয়েছিল। তৎকালীন নির্বাচনী কাউন্সিল ভোটের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ না করেই মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে বিরোধী দল ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী গঞ্জালেজ উরুতিয়া বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন, যার ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক রাষ্ট্র তাকেই বৈধ বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রদ্রিগেজ সরকারের ওপর মাচাদো ও গঞ্জালেজের এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক চাপ এবং নতুন নির্বাচনের দাবি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।