খেলাধূলা ডেস্ক
আগামী বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে বড় ধরনের চোট সমস্যায় পড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের অন্যতম প্রধান মধ্যমাঠের খেলোয়াড় লিয়ান্দ্রো প্যারাদেসের নতুন করে চোটে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির ওপর কৌশলগত চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্ব শুরুর ঠিক আগে প্রধান খেলোয়াড়দের এই ধারাবাহিক চোট আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও দলীয় ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
বিশ্বকাপে মাঠে নামার পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে একটি চূড়ান্ত প্রস্তুতি ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনা দলের। তবে এই ক্যাম্প শুরুর পূর্বেই লিয়ান্দ্রো প্যারাদেসের ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে বড় ধরনের ‘টিয়ার’ বা পেশি ফেটে যাওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে। এই চোটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে এই মিডফিল্ডারের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্টের মূল পর্বের আগে মাঝমাঠের এই নির্ভরযোগ্য ফুটবলারের অনুপস্থিতি দলের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার মধ্যকার ভারসাম্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
প্যারাদেসের পূর্বে দলের অধিনায়ক ও প্রধান তারকা লিওনেল মেসিকে নিয়েও বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে একটি ম্যাচে খেলার সময় তিনি বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তবে পরবর্তীতে নিবিড় চিকিৎসकीय পরীক্ষার পর জানা যায় যে, মেসির চোট অত্যন্ত গুরুতর নয়, মূলত পেশির অতিরিক্ত টানের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বকাপ আসরের মূল ম্যাচগুলোতে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পাওয়ার লক্ষ্যে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় প্রীতি ম্যাচগুলোতে তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে আর্জেন্টিনা দলীয় ব্যবস্থাপনা।
দলটির চোটের তালিকা এখানেই শেষ নয়; প্রথম সারির গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনাল ম্যাচের আগে গা-গরম করার সময় তাঁর হাতের আঙুলে একটি সুক্ষ্ম ফাটল বা ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। যদিও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এই চোটের জন্য কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই, তবুও আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী ম্যাচের আগে তিনি কতটুকু ফিট হতে পারবেন, তা নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি। চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
এছাড়াও আর্জেন্টিনার নিয়মিত স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিকো পাজ, রক্ষণভাগের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, আক্রমণভাগের হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেস, ডিফেন্ডার গঞ্জালো মন্তিয়েল, নাহুয়েল মলিনা এবং থিয়াগো আলমাদাও বিভিন্ন মাত্রার চোট ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে এতজন প্রথম সারির খেলোয়াড়ের চোটাক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও কম্বিনেশন গঠনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
এই জটিল পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও তাঁর সহকর্মী কারিগরি স্টাফরা জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। মূল স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড় যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেতে ব্যর্থ হন, তবে বিকল্প তালিকায় থাকা ফুটবলারদের মূল দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই তালিকায় ব্যাক-আপ হিসেবে তৈরি রাখা হয়েছে সান্তিয়াগো বেলত্রান, অগাস্টিন গিয়াই, নিকোলাস কাপালদো, নিকোলাস ডমিঙ্গুয়েজ, মাতিয়াস সুলে, ম্যাক্সিম পেরন এবং এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে।
বিশ্বকাপের মতো একটি বড় মঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামার আগে প্রধান খেলোয়াড়দের এই ধারাবাহিক চোট আর্জেন্টিনার কৌশলগত পরিকল্পনাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আগামী দিনগুলোতে খেলোয়াড়দের চোট থেকে সেরে ওঠার হারের ওপরই নির্ভর করছে দলটির চূড়ান্ত সাফল্য।