1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৩৭ জনের বেপরোয়া বাসের প্রতিযোগিতায় চাঁদপুরে হাসপাতালের দারোয়ান নিহত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় ঘিরে ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতা, গ্রেফতার ৪১৬ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালি পাঠানোর নামে ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি মগবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দুঃখ প্রকাশ বরেণ্য গণসংগীতশিল্পী কামরুদ্দীন আবসারের প্রয়াণ, সোমবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন মালয়েশিয়ায় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ক্যান্সার চিকিৎসায় ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ অ্যামিভ্যানটাম্যাবের অভূতপূর্ব সাফল্য ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, চিরচেনা রূপে ফিরছে রাজধানী

নয়াদিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস: ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার, ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ধসে পড়া পাঁচতলা ভবনটিতে একটি মেডিক্যাল কোচিং ইনস্টিটিউট, বেশ কয়েকটি ক্যাফে ও করপোরেট কার্যালয় ছিল। ভবনটির তৃতীয় তলায় বেশ কিছুদিন ধরে সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় ভবনটি হঠাৎ ধসে পাশের একটি অস্থায়ী টিনের ছাউনি দেওয়া ক্যান্টিনের ওপর পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ওই ক্যান্টিনে বহু শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। মাত্র চার-পাঁচ বছর আগে নির্মিত এই ভবনটিতে কোচিং সেন্টার ও বাণিজ্যিক কার্যালয় থাকায় সেখানে সব সময় তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীদের সমাগম থাকত। ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ আটকে থাকতে পারেন, যাদের একটি বড় অংশই চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনাস্থলে আলো জ্বালিয়ে (ফ্লাডলাইট) রাতভর উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। নিখোঁজদের সঠিক তথ্যের জন্য অনেকেই অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসসহ (এইমস) দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করছেন। উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে আরও বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ও জরুরি উদ্ধারকারী যান মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য ভারী এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্টিলের গার্ডার ও কংক্রিট কাটার জন্য হাইড্রোলিক কাটার এবং জ্যাক ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে ভিকটিম-লোকেশন ক্যামেরা, আর্থ-অগার ড্রিলিং মেশিন এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্নাইপার ডগ (সন্ধানী কুকুর) ব্যবহার করা হচ্ছে।

দক্ষিণ দিল্লির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ধর্মবীর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে আটকে পড়াদের দ্রুত জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই এখন প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার। দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) অনন্ত মিত্তাল জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পুলিশ ভবন ধসের খবর পায় এবং তিন মিনিটের মধ্যে মেহরাউলি থানার পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক কাজ শুরু করে।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভবন ধসের ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ভবনটির মালিকানা কার ছিল, পাঁচতলা ভবন নির্মাণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং তৃতীয় তলায় চলমান নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা ত্রুটি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির মতো জনাকীর্ণ এলাকায় এই ধরনের বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ধসের ঘটনা আবাসন নিরাপত্তা এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) অনুসরণের বিষয়টিকে পুনরায় বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026