আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জীর ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। গত শনিবারের এই হামলার পর সিসিটিভি ও গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে এই ঘটনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার সোনারপুরে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে আকস্মিক হামলার শিকার হন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জী। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কর্মসূচি চলাকালীন তাকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতায় তিনি বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান। ঘটনার পর পরই বারুইপুর জেলা পুলিশ হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে রাতভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার পেছনের কারণ ও কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাস করেছে রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ‘এক্স’ (X) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে তার সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক ৩ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী (PSO) নিয়োজিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সম্প্রতি অভিষেক ব্যানার্জীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংকুচিত করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে তিনি সর্বোচ্চ স্তরের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা পেতেন। তবে সরকার বদলের পর তা হ্রাস করে মাত্র দুজন নিরাপত্তা রক্ষীতে নামিয়ে আনা হয়। শনিবার সোনারপুরের ওই কর্মসূচিতেও তার সাথে মাত্র দুজন রক্ষী উপস্থিত ছিলেন। হামলার ঘটনার পর তার জীবননাশের আশঙ্কার বিষয়টি সামনে আসায় প্রশাসন দ্রুত এই নিরাপত্তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
শনিবার রাতের এক বিবৃতিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এই হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তিনি জানান, কর্মসূচিস্থলে যেভাবে পাথর ছোঁড়া হয়েছিল, তাতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। স্থানীয় যুবকেরা তাৎক্ষণিকভাবে মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেয়ায় সাংসদ বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।