1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
১৭ মাস পর ভারত থেকে ৩৬ বাংলাদেশি যুবকের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মোহাম্মদ শ্রাবণের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন আশুগঞ্জে পশুর চামড়া রাখা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ পাকিস্তানের ১১ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেপ্তার, বাকস্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্জ্য অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন রাজশাহী মহানগরী জরাজীর্ণ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ঘোষণার উদ্যোগ কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে মাঠে নামলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ বিশিষ্টজনদের সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, পুশইন ও চামড়া পাচার রোধে ঈদের ছুটি বাতিল

পাকিস্তানের ১১ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেপ্তার, বাকস্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে পাকিস্তানের ১১ জন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নবগঠিত বিশেষায়িত সংস্থা ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (এনসিসিআইএ)। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন শহরে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। দেশটির বিতর্কিত সাইবার আইন ‘প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট’ (প্যাকা)-এর অধীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই গণগ্রেপ্তারের ঘটনা পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে বাকস্বাধীনতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এনসিসিআইএ পাঞ্জাব অঞ্চলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বেশ কিছু দিন ধরে দেশটির গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। তারা ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে সুনির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনলাইন ক্যাম্পেইন এবং উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঞ্জাবের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে লাহোর থেকে দুজন, ফয়সালাবাদ থেকে তিনজন, মূলতান থেকে তিনজন এবং গুজরানওয়ালা থেকে একজন রয়েছেন।

সংস্থার পাঞ্জাব অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ আলী ওয়াসিম এই অভিযান প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রয়াসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অ্যাক্টিভিস্টদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর ফরেনসিক ও তথ্যগত রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই প্রচারণার পেছনে অন্য কোনো দেশি-বিদেশি অনলাইন নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মে মাসেই পাঞ্জাবে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের ক্র্যাকডাউন বা দমনপীড়ন। এর আগে মে মাসের শুরুর দিকে একইভাবে আরও ১৩ জন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তার করেছিল দেশটির এই সাইবার সংস্থাটি। পূর্ববর্তী অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের একটি বড় অংশ কারারুদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সক্রিয় সমর্থক ও কর্মী বলে জানা গেছে। ফলে চলমান এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবে দেখছেন দেশটির বিরোধী দলগুলো ও স্বাধীন পরিদর্শকরা।

এদিকে, এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের ২০১৬ সালের ‘প্যাকা’ আইন এবং কঠোর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অধিকারকর্মীদের মতে, রাষ্ট্রবিরোধী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার দোহাই দিয়ে মূলত ভিন্নমত দমন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের কণ্ঠরোধ করার একটি হাতিয়ার হিসেবে এই আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের ঢালাও পদক্ষেপ দেশের নাগরিকদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে খর্ব করে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সংকটের কারণ হতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026