আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনে চলমান সামরিক সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করে উত্তেজনা হ্রাসে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। সম্প্রতি ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদের এই জরুরি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের বর্তমান গতিপথ আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বকে এক অজানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই টেকসই নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুর এই চক্র বন্ধ করতে হলে বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন করা আবশ্যক। তিনি অবিলম্বে এবং ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা হ্রাসসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দেন।
জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮০০ শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনগুলোতেও দেশটির সীমান্তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংঘাতের সম্মুখভাগ বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়লেও আধুনিক ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলো ধারাবাহিকভাবে ধ্বংসের সম্মুখীন হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ন্যায়সংগত, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক শান্তির পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দেন। তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখন আরও বেশি কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন। এই সংকটের সমাধান এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য দায়িত্বশীল পক্ষগুলোকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে, উদ্ভূত সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের বাহিনী কর্তৃক রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার কারণে পূর্ব ইউরোপের এই যুদ্ধক্ষেত্র আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সময়োচিত আহ্বান বিশ্বশক্তির ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ সৃষ্টি করবে এবং নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।