আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফোনালাপকালে বর্তমান আঞ্চলিক সংকটে ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শান্তিপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, চলমান সংকটে মূল্যবান প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় ইরানের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও অবিচল সংহতি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান একটি নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে যেকোনো পরিস্থিতিতে ইরানের পাশে থাকবে। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের সূত্র ধরে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফোনালাপে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে চলমান মধ্যস্থতা ও শান্তিপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরসহ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং গঠনমূলক ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দেশগুলোর সমন্বিত প্রয়াসকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন, এই অঞ্চলে চলমান শান্তিপ্রচেষ্টা ও সংলাপের ধারা শিগগিরই একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ চুক্তিতে রূপ নেবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখতে যৌথ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে দুই নেতাই একমত পোষণ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে ইরান ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ফোনালাপ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের এই জোরালো অবস্থান ও সংহতি প্রকাশ ইরানের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাড়তি শক্তি জোগাবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে একটি কার্যকর সমাধান সূত্র তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।