আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রোববারের এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলা চলাকালে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় রোববার ভোর থেকে কিয়েভের আকাশসীমায় একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। আকস্মিক ও তীব্র এই হামলার পর প্রাণভয়ে কিয়েভের সাধারণ বাসিন্দারা ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। ইউক্রেনীয় সামরিক প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকর্মীদের আগুন নেভাতে এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা গেছে। এই রুশ হামলায় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, শপিং সেন্টার, ঐতিহাসিক জাদুঘর, থিয়েটার, স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাটি সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় ও সুপরিকল্পিত বিমান হামলাগুলোর একটি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ নিয়ন্ত্রিত একটি কারিগরি বিদ্যালয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। রোববারের এই ব্যাপক হামলাকে সেই সতর্কবার্তারই সরাসরি বাস্তবায়ন এবং রাশিয়ার প্রতিশোধমূলক সামরিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে কিয়েভের প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা জানান, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা যখন ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে অবস্থান করছিলেন, তখন পরপর কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণে চারপাশ কেঁপে ওঠে। চতুর্থ বিস্ফোরণটির তীব্রতায় মেট্রো স্টেশনের ছাদের একাংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে। এর ফলে আশ্রিত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই বিশাল বিমান হামলায় রুশ বাহিনী আনুমানিক ৬০০টি ড্রোন এবং ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে এই আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এর ফলে রাশিয়ার ছোড়া ড্রোনের মধ্যে ৫৪৯টি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৫৫টি আকাশেই ধ্বংস বা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই হামলার পর ইউক্রেন জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।