1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মানিকগঞ্জে জাতীয় কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। জুন মাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ আয়োজন করতে যাচ্ছে রংপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের আর্থিক সহায়তা বিতরণ কুয়েতে বাংলাদেশের খাদ্য সহায়তা হস্তান্তর: সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার ১০০ দিনে সরকারের একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়; অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আগামী ২৮ মে অলাভজনক ও অসংগতিপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাদ দেওয়ার উদ্যোগ সরকারের বাংলাদেশ ও আইএমএফের নতুন তিন বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচি শুরুর সিদ্ধান্ত উচ্চ প্রযুক্তির চিপের চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা সন্দেহভাজন রোগী ৯শ’ পার, মৃত দুই শতাধিক

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। সংঘাত-কবলিত এই মধ্য আফ্রিকান দেশটিতে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৯০০ জন অতিক্রম করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস এবং ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পৃথক বিবৃতিতে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস এক বিবৃতিতে জানান, ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিবিড় অনুসন্ধান ও পরীক্ষার ফলে এখন পর্যন্ত ৯০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন রোগী চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১০১ জনের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সর্বশেষ এই বিবৃতিতে প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট কোনো হালনাগাদ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, মধ্য আফ্রিকার এই দেশটির তিনটি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রদেশ তিনটিতে এখন পর্যন্ত ৮৬৭টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য প্রশাসন। মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের আশঙ্কা, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত ব্যাধি। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ বা নিঃসৃত রসের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস সুস্থ মানুষের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর, পেশি ব্যথা ও দুর্বলতার পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে মানবদেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটে।

চলতি মাসের ১৫ মে ডিআর কঙ্গো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। মহামারি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের সংক্রমণটি ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) নামক একটি নির্দিষ্ট ধরন থেকে ছড়িয়েছে। এই ধরনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত, কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত এই ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অনুমোদিত টিকা কিংবা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে কেবল লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা এবং রোগীকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন (আইসোলেশন) রাখার মাধ্যমেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঐতিহাসিকভাবে আফ্রিকা মহাদেশে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ অত্যন্ত মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করে আসছে। গত অর্ধশতকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রলয়ংকরী রূপ বিশ্বজুড়ে মহামারি আতঙ্ক তৈরি করেছিল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিআর কঙ্গোর বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভাইরাসের বিস্তার রোধে কোয়ারেন্টাইন ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, যা সমগ্র আফ্রিকার আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026