রাজধানী ডেস্ক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা স্বাভাবিক ও আরামদায়ক করতে আগামীকাল সোমবার থেকে অতিরিক্ত ১০টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আজ রবিবার সকালে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে এবং এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী।
রেলমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রার সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রয়েছে। আজ সকালে তিনি নিজে দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সাথে কথা বলেছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, সকাল থেকে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে তিনটি ট্রেন কিছুটা বিলম্বে স্টেশন ছেড়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন প্রায় ৩০ মিনিট এবং অন্য একটি ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে আজকের মধ্যেই এই সাময়িক শিডিউল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রেলে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কমলাপুরসহ দেশের প্রধান প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রেনের ছাদে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশ রোধে তিন স্তরের চেকিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর ঈদের সময় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে সিডিউল বিপর্যয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়। এই সংকট মোকাবিলায় এবার অতিরিক্ত ১০টি বিশেষ ট্রেন (স্পেশাল ট্রেন) যুক্ত করা হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রী চলাচল সুগম করবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলগামী যাত্রীদের চাপ সামলাতে এই ট্রেনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রেললাইনগুলোর কারিগরি সুরক্ষায় প্রতিটি জংশন ও প্রধান স্টেশনে প্রকৌশল বিভাগের বিশেষ দল সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।