খেলাধূলা ডেস্ক
আগামী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের পূর্বপরিকল্পিত বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং ভিসা প্রাপ্তির জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে এখন মেক্সিকোতে দলটির মূল অনুশীলন ক্যাম্প বা বেস ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার তেহরানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেহদি তাজ জানান, আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) নীতিগত অনুমোদন নিয়েই এই কৌশলগত পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা চাক্ষুষ নিশ্চিতকরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টিকে চূড়ান্ত হিসেবেই গণ্য করছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ইরান জাতীয় ফুটবল দলের বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসন শহরের কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। সেখানে দলটির দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলন ও থাকার বন্দোবস্ত চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় নেয় ইরান। এছাড়া দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সত্ত্বেও ইরান দলের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রাপ্তি নিশ্চিত না হওয়া এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ এক বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের বেস ক্যাম্প চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফিফার সরাসরি সম্পৃক্ততা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ইরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে ফিফা এবং বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তেহরানে ফিফার মহাসচিবের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের একটি ভার্চ্যুয়াল আলোচনাও সম্পন্ন হয়। এই আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পরই মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ ক্যাম্প স্থানান্তরের আবেদনটি অনুমোদন পায়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায় ইরানের মূল বিশ্বকাপ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই শহরটি ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের ধারণা, তিহুয়ানায় ক্যাম্প স্থাপনের ফলে একদিকে যেমন মেক্সিকোর ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো যাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভেন্যুগুলোতে যাতায়াত করাও দলটির জন্য অনেক সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মেগা টুর্নামেন্টটি চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এবারের বিশ্বকাপে ইরান খেলছে ‘জি’ গ্রুপে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলবে তারা। আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরাশক্তি দলটি। এরপর ২১ জুন তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী বেলজিয়ামের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান। মেক্সিকোর এই নতুন বেস ক্যাম্প থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ ভেন্যুগুলোতে যাতায়াত করবে ইরানি দল।