1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী ঈদুল আজহার আগে সূচকের উত্থানে শেষ হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন, কমেছে পরিমাণ মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ২৯ কার্যদিবসে ঐতিহাসিক রায় রামিসা হত্যার বিচার ৫-৭ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মনির্ভরশীল শক্তির দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বগুড়াকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সোমবার থেকে বিশেষ ট্রেন চালু ‘দৃশ্যম ৩’-এর রেকর্ড ওপেনিং, প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ৪৩ কোটি রুপি আয় কোরবানির চাহিদা মেটাতে দেশীয় গরুই যথেষ্ট: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অনুমতিপত্র ছাড়া হজে প্রবেশের চেষ্টা ও প্রতারণার অভিযোগে মক্কায় আটক ১৩

মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করছে পুলিশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে যাচ্ছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার চূড়ান্ত ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে আজ রবিবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ঘরে ডেকে নেন। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ে রামিসা স্কুলে না যাওয়ায় তার মা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের ঘরের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরে একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি হেফাজতে নেয়। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সোহেল রানা ততক্ষণে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, অপরাধ সংঘটনের পূর্বে তিনি মারাত্মক মাদকদ্রব্য ‘ইয়াবা’ সেবন করেছিলেন। শিশু রামিসা তাদের ঘরে প্রবেশ করার পর তিনি তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন, যার ফলে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই মুহূর্তে রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়লে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সোহেল রানা ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করেন।

স্বীকারোক্তিতে আরও জানা যায়, মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে আসামিরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। এই সম্পূর্ণ অপরাধ প্রক্রিয়া চলাকালীন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরে অবস্থান করে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সোহেল রানা ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি স্পষ্ট করেছেন যে, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব শত্রুতা ছিল না; মূলত মাদকাসক্তি এবং তাৎক্ষণিক অপরাধমূলক মানসিকতা থেকেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই ধরনের নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে ডিএনএ প্রতিবেদন প্রাপ্তি এবং নিখুঁত চার্জশিট দাখিল বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ফরেনসিক রিপোর্টের সমন্বয়ে একটি নিশ্ছিদ্র অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026