ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করা বার্সেলোনা পরাজয়ের তিক্ততা নিয়ে ঘরোয়া মরশুম শেষ করেছে। লিগের শেষ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার ঘরের মাঠ মেস্তায়া স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়ে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছে কাতালান ক্লাবটি। এই ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোস্কি, যা ছিল ক্লাবটির জার্সিতে তার বিদায়ী ম্যাচ। অন্যদিকে, এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১১ ম্যাচ পর বার্সেলোনার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল ভ্যালেন্সিয়া।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ভ্যালেন্সিয়া। স্বাগতিক স্ট্রাইকাররা বার্সেলোনার রক্ষণভাগে বেশ কয়েকবার ফাটল ধরালেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। উল্টো বার্সেলোনা গোলের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। খেলার প্রথমার্ধে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে রবার্ট লেভানদোস্কির একটি জোরালো হেড সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় বার্সেলোনা। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৬১ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন লেভানদোস্কি। সতীর্থ ফেরান তোরেসের একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে ডি-বক্সে পজিশনে থাকা লেভানদোস্কি অত্যন্ত নিখুঁত ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে বার্সেলোনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। বিদায়ী ম্যাচে এই গোলের মাধ্যমে পোলিশ এই তারকা ফুটবলার লা লিগায় একটি নতুন ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। লা লিগার ইতিহাসে একক কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই প্রথম ১০টি গোল করার রেকর্ড গড়লেন তিনি।
তবে বার্সেলোনার এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়া। গোল হজমের ঠিক পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৬৬ মিনিটে দূরপাল্লার এক দর্শনীয় শটে ভ্যালেন্সিয়াকে সমতায় ফেরান মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হাভি গেরা। সমতায় ফিরে আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ৭১ মিনিটে লুইস রিওহা চমৎকার এক ফিল্ড গোল করে ভ্যালেন্সিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
খেলার শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য অলআউট আক্রমণে যায় বার্সেলোনা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বার্সার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের একটি চমৎকার হেড গোললাইনের ঠিক ওপর থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক স্টোলে দিমিত্রিয়েভস্কি। ফলে নিশ্চিত সমতা ফেরানো থেকে বঞ্চিত হয় সফরকারীরা। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে গুইদো রদ্রিগেজ ভ্যালেন্সিয়ার পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে স্বাগতিকদের ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
মরশুমের শেষ ম্যাচে এই জয়টি ভ্যালেন্সিয়ার জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ ১১টি ম্যাচের খরা কাটিয়ে তারা বার্সেলোনার বিপক্ষে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে সমর্থ হলো। তবে এই জয়ের পরেও পয়েন্ট তালিকার সমীকরণে পিছিয়ে থাকায় আগামী মরশুমের ইউরোপিয়ান কোনো প্রতিযোগিতায় (উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ইউরোপা লিগ) নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে পারেনি ভ্যালেন্সিয়া। অপরদিকে, শিরোপা আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই পরাজয় বার্সেলোনার পয়েন্ট তালিকায় কোনো প্রভাব ফেলেনি, তবে লেভানদোস্কির মতো একজন তারকা স্ট্রাইকারের বিদায়ী ম্যাচটি পরাজয়ের বেদনায় মলিন হলো।