আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আজ রবিবার আদালতে দাখিল করা হতে পারে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি থেকে ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এই প্রস্তুতি নিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ও আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ গণমাধ্যমকে জানান, রামিসা হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর মামলার বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণের জন্য সংগৃহীত আলামত সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর সেই রিপোর্ট এখন তদন্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিএনএ রিপোর্টসহ অন্যান্য নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া ও স্ক্রুটিনি শেষে আজই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, সিআইডির পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার ফরেনসিক পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিএনএ প্রোফাইলিং, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ভিসেরা রিপোর্টের চূড়ান্ত ফলাফল ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলো আদালতে অপরাধ প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা।
এর আগে, গত ২০ মে পল্লবী থানা পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ আদালতে আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে জামিন অযোগ্য ধারায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে আসামি জেলহাজতে রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে ও কৌশলে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হলে আসামি ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার এবং আলামত ও প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি উল্লেখ করেছেন যে, অপরাধ সংঘটনের পূর্বে তিনি ইয়াবা নামক মাদক সেবন করেছিলেন। মাদকাসক্ত অবস্থায় তিনি এই অপরাধ ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন।
পুলিশের তদন্তে আরও দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের মধ্যে পূর্বশত্রুতার কোনো ইতিহাস বা জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। মূলত আসামির অনৈতিক ও অপরাধমূলক মানসিকতার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। রামিসা নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে গত ২০ মে পল্লবী থানায় একটি হত্যা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দিনই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। একই সাথে ঘটনার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির স্ত্রীকেও আদালতে হাজির করে তদন্তের স্বার্থে পৃথক আবেদন জমা দিয়েছিল পুলিশ।
আইনজীবীদের মতে, স্পর্শকাতর এই মামলায় ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট দ্রুত চলে আসায় বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালত তা আমলে নিয়ে চার্জ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করবেন। রাজধানীর অন্যতম জনবহুল এলাকা পল্লবীতে সংঘটিত এই লোমহর্ষক ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।