রাজধানী ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যানটিনে গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে ভয়াবহ এই শিল্প দুর্ঘটনার পর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. কাউসার (৩০) নামের ওই ব্যক্তি মারা যান। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, নিহত কাউসারের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল এবং শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুরু থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
এর আগে গত বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় অবস্থিত ‘জেরা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’ নামক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের ক্যানটিনে গ্যাস সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে এই তীব্র বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। ক্যানটিনটি মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের খাবার ও বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত হতো। দুপুরের খাবার চলাকালীন আকস্মিক এই বিস্ফোরণে পুরো ক্যানটিন ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে কর্মরত ও অবস্থানরত ১২ জন কর্মী মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হন। ঘটনার পরপরই কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার বিশেষায়িত বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান দুর্ঘটনার সার্বিক চিত্র ও সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন দগ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথম দফায় শঙ্কর (২৫) ও মো. আমির (২৫) নামের দুই কর্মী মারা যান। আজ সকালে কাউসারের মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন বাকি রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আবাসিক চিকিৎসক আরও উল্লেখ করেন, আহতদের মধ্যে যাদের শরীরের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল, তাদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা ও ড্রেসিং শেষে ইতোমধ্যে ছয়জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি তিনজনের শরীর ও শ্বাসনালীর জটিলতার কারণে নিবিড় পরিচর্যায় রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের অবস্থাও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
শিল্পাঞ্চল সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত স্থাপনার অভ্যন্তরে এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয় শ্রমিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডার বা সরবরাহ লাইনের ত্রুটিজনিত লিকেজ থেকে ক্যানটিনে গ্যাস জমে থাকার প্রমাণ মিলেছে, যা কোনো বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরিত হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিল্প পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং গ্যাস লাইনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।