আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল পরিবর্তন করে দেওয়া হবে এবং দেশটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ভারতের নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। গত দুই দেশের মধ্যকার ১৯ দিনের সামরিক সংঘাত এবং এর পরবর্তী আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পাকিস্তানের একটি গণমাধ্যমের বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেন, গত ২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলমান ১৯ দিনের সামরিক সংঘাতে ভারত বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী সেই সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিজের বাহিনীর হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যেই মূলত সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানবিরোধী উত্তপ্ত বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার কাছে ভারতের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, যা ভারতের সামরিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল মাসে সীমান্ত অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে একটি ব্যাপকভিত্তিক পালটা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উক্ত অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনী ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। একই সঙ্গে ভারতের আধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানসহ মোট আটটি ফাইটার জেট এবং বেশ কয়েকটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে ইসলামাবাদ। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র বিমান ও স্থল সংঘাতের পর, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় ১০ মে দুই পারমাণবিক পরাশক্তির মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
খাজা আসিফ আরও উল্লেখ করেন, এই সামরিক পরাজয়ের ফলে একটি রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারতের একক আধিপত্য হ্রাস পাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নাম উল্লেখ করে বলেন, একসময় ভারত এই রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের একক প্রভাব বলয়ের অংশ মনে করলেও, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পূর্বের সেই অবস্থান আর বজায় নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
বিপরীতে, এই সংঘাতের পর দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান একটি অত্যন্ত ‘সম্মানজনক ও শক্তিশালী অবস্থান’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের এই সামরিক ও কূটনৈতিক সফলতা ভারতের নীতি নির্ধারকদের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, যার ফলে তারা সীমান্তে উত্তেজনা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
ভারত ও ইসরাইলের মধ্যকার অক্ষ এবং পাকিস্তানবিরোধী কোনো গোপন সমন্বয় রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে খাজা আসিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ইসরাইল ও ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। ইসরাইল কখনোই চায় না যে এই অঞ্চলে তাদের প্রধান মিত্র ভারতের চেয়ে সামরিক কিংবা পারমাণবিক দিক থেকে শক্তিশালী কোনো মুসলিম রাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ অবস্থান করুক। ফলে পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার জন্য এই দুই দেশ একযোগে কাজ করছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আঞ্চলিক এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।