খেলাধূলা ডেস্ক
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের জরুরি আহ্বানে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এক নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফেডারেশন কাপের ফাইনাল ভেন্যু নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা নিরসন এবং জাতীয় দলের নতুন কোচ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যেই মূলত এই জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে বাফুফে ভবনে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ফাইনালিস্ট দুই ক্লাব বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে বসেন। তবে ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। ঢাকা মোহামেডান কর্তৃপক্ষ কিংস অ্যারেনায় ফাইনাল ম্যাচ খেলতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানালে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বাফুফে সভাপতি সোমবার রাতের মধ্যে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও ক্লাবগুলোর অনমনীয় মনোভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি, যার পরিপ্রক্ষিতে আজ এই জরুরি নির্বাহী সভা আহ্বান করা হয়েছে।
নির্বাহী কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সভার ঠিক আধা ঘণ্টা আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় বাফুফে ভবনে সশরীরে উপস্থিতিতে জাতীয় দল কমিটির একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। বিগত কয়েকদিন ধরে এই কমিটির কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ সদস্যরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। এই বৈঠকেই হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন কোচের নাম চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু বেশ কিছুদিন ধরে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা বিদেশি কোচদের সঙ্গে আলোচনা ও আর্থিক চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি চালিয়ে আসছিলেন। প্রাথমিক তালিকায় ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান ফুটবল প্রেমী ও সংশ্লিষ্টদের প্রথম পছন্দ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও অন্যান্য শর্তাবলী না মেলায় তাঁর বাংলাদেশে আসা হচ্ছে না। ফলে বাফুফের নীতিনির্ধারকেরা এখন তালিকার দ্বিতীয় পছন্দ থাকা প্রার্থীর দিকে ঝুঁকেছেন।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় তালিকায় থাকা কোচের সঙ্গেই আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং আজকের সভায় অনুমোদন মিললে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বাফুফে সভাপতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আগামী ২৪ মে থেকে নতুন কোচের অধীনে জাতীয় দলের পূর্বনির্ধারিত ক্যাম্প শুরু করা সম্ভব হয়। অভ্যন্তরীণ লিগের ভেন্যু বিতর্ক এবং জাতীয় দলের অভিভাবকহীনতা দূর করতে আজকের এই দ্বিমুখী সভা দেশের ফুটবল অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।