খেলাধূলা ডেস্ক
দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষা ও চোটের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে অবশেষে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলে ফিরলেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। আগামী ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচের দেওয়া শর্ত মেনে সম্পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পরই দলে ডাক পেলেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর মাধ্যমে নেইমারের ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হলো।
গতকাল রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইতালিয়ান এই দূরদর্শী কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, শতভাগ শারীরিক ফিটনেস প্রমাণ করতে পারলেই কেবল নেইমারকে দলে বিবেচনা করা হবে। কোচের এই কঠোর নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে সান্তোসের হয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ও ফিটনেস ধরে রাখার জন্য নিবিড় পরিশ্রম চালিয়ে যান নেইমার। দলে তার এই প্রত্যাবর্তনকে কোচের আস্থার প্রতিদান এবং তার দীর্ঘদিনের কঠোর সাধনার ফসল হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ব্রাজিলের হয়ে রেকর্ড ৭৯টি গোল করা নেইমার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। মন্টেভিডিওতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল ব্রাজিল। উক্ত ম্যাচের প্রথমার্ধেই বাঁ হাঁটুর অ্যান্টিরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) এবং মেনিস্কাস ছিঁড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন এই চোট কাটিয়ে পূর্ণ গতি ও ফিটনেসে ফেরা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নানা সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ সীমিত থাকলেও ব্যক্তিগত অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানদণ্ডে নিজেকে প্রস্তুত করেন।
জাতীয় দলে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি কেবল মাঠের খেলায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করবে না, বরং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দলে ফেরা নিয়ে তার পরিবার এবং ভক্তদের মাঝে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটেছে। নেইমারের পিতা ও এজেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলারের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে জানান, উরুগুয়ে ম্যাচের সেই মারাত্মক চোটের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা, ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা সংশয় এবং সমালোচকদের নীরবতা সহ্য করতে হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলে ফিরে আসা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের একটি মুহূর্ত।
আসন্ন বিশ্বকাপে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের উপস্থিতি ব্রাজিলের হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনা এবং নেইমারের সৃষ্টিশীল খেলার শৈলী মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আগামী দিনগুলোতে দলের মূল স্কোয়াডের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ মানিয়ে নেওয়াই হবে এই অভিজ্ঞ তারকার প্রধান লক্ষ্য।