বিনোদন প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ওটিটি কনটেন্টের ইতিহাসে ‘মহানগর’ অন্যতম সফল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এতে কেন্দ্রীয় ‘ওসি হারুন’ চরিত্রে অভিনেতা মোশাররফ করিমের পারফরম্যান্স দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মহানগর ২’ এর শেষ দৃশ্যে মূল চরিত্র গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং সমসাময়িক সময়ে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ‘এমপি রজব আলী’ চরিত্রে আকস্মিক আগমন গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই দর্শকরা তৃতীয় কিস্তির জন্য অপেক্ষা করছেন। দ্বিতীয় সিজন শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সিরিজটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং পরবর্তী কিস্তিতে দুই বাংলার দুই প্রভাবশালী অভিনেতার স্ক্রিন শেয়ারিং দেখার বিষয়ে দর্শকরা ব্যাপক আগ্রহ দেখান।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য সিরিজটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় কিস্তির শেষ দিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি চরিত্রে অভিনয়ের পর পরিচালক আশফাক নিপুণ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তৃতীয় কিস্তিতে মোশাররফ করিম এবং তিনি মূল ভূমিকায় থাকবেন। পরবর্তীতে সিরিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান পর্যন্ত এর কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি বা নতুন কোনো খবর তার জানা নেই। অনির্বাণ ভট্টাচার্য বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় সিরিজে কাজ করার জন্য নিজের গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সিরিজটির নির্মাণ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে পরিচালক আশফাক নিপুণের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিচালকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় তৈরি হয়েছে এই দীর্ঘসূত্রতা।
সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ ভট্টাচার্য টালিগঞ্জের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাট্য ও চলচ্চিত্র মাধ্যমের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম এবং জয়া আহসানের মতো প্রথম সারির অভিনয়শিল্পীদের কাজের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের নির্মাতাদের মধ্যে নুহাশ হুমায়ুনের সঙ্গে কাজ করারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশে মানসম্পন্ন কাজ এবং শক্তিশালী চিত্রনাট্যের আধিক্য থাকায় এখানকার ওটিটি ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কলকাতার অনেক প্রথম সারির অভিনয়শিল্পীদের আকর্ষণ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের ওটিটি বা ওভার-দ্য-টপ প্ল্যাটফর্মের বাজার এখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ‘মহানগর’ এর মতো কনটেন্ট আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশি ওয়েব সিরিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। তবে এই ধরনের বড় প্রজেক্টগুলোর পরবর্তী কিস্তি নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগার পেছনে সাধারণত বাজেট নির্ধারণ, শিল্পীদের শিডিউল মেলানো এবং চিত্রনাট্য পরিমার্জনের মতো বিষয়গুলো জড়িত থাকে। ‘মহানগর ৩’ শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।