আইন আদালত ডেস্ক
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। তবে আদালত স্থায়ী জামিন ও বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দিলেও আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখগুলোতে তাঁকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ মামলার পূর্বনির্ধারিত দিনে আনিস আলমগীর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে হাজিরা প্রদান করেন। এ সময় তাঁর আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি তিনটি পৃথক আবেদন পেশ করেন। আবেদনগুলোতে আসামির স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি এবং প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর স্থায়ী জামিন ও বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দিলেও নিয়মিত হাজিরা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নাকচ করে দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন বাদী হয়ে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এই মামলাটি দায়ের করে। দুদকের পক্ষ থেকে দাখিলকৃত এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামির বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে তাঁর অর্জিত সম্পদের বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিস আলমগীরের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ পাওয়া গেলেও তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী তাঁর বৈধ আয়ের পরিমাণ মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। অর্থাৎ, ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি, যা তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ।
উল্লেখ্য, এই মামলায় গত ২৮ জানুয়ারি আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১১ মার্চ আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। আজকের আদেশের মাধ্যমে তাঁর সেই জামিন স্থায়ী রূপ পেল। অন্যদিকে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন।
আইনজীবীদের মতে, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ না হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে আসামির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। দুদক আইন অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। বর্তমানে দুদকের এই মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। দুর্নীতি বিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দুদক এই মামলাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জামিন প্রাপ্তির ফলে আসামি কারামুক্ত থাকলেও মামলার তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। আগামী ধার্য তারিখে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে অভিযোগ গঠন বা সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হতে পারে। জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আদালত আইনি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।