সিলেট — জেলা প্রতিনিধি
সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেনের বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় কোনো বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে এ ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি সিলেট স্টেশন ছেড়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। শিববাড়ি এলাকা অতিক্রম করার সময় ট্রেনের একটি বগির নিচের অংশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখেন যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা দৃশ্যমান হলে কামরার ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষের মাঝে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। জীবন বাঁচাতে অনেক যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকেই নামার প্রস্তুতি নিতে থাকেন এবং চিৎকার শুরু করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামানো হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, ট্রেনের দায়িত্বরত কর্মচারী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুনের তীব্রতা বাড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ট্রেনের ভেতরের কোনো আসবাবপত্র বা মূল কাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগুনের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর রেলওয়ের কারিগরি টিমের সদস্যরা বগিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। ট্রেনের চাকার ঘর্ষণজনিত উত্তাপ কিংবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে এবং ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর আরও গুরুত্বারোপ করা হবে।
রেলপথে সাম্প্রতিক সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যাত্রীদের মাঝে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নিয়মিত কোচ পরীক্ষা এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।