অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে মূল্য সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গতকাল পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে মানভেদে স্বর্ণের দাম ২ হাজার টাকার বেশি হ্রাস পেয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দীর্ঘসময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি আসায় এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছে। স্থানীয় বাজারে এই দর কমার ফলে অলঙ্কার ক্রেতাদের মধ্যে ক্রয়স্পৃহা বাড়বে এবং বিবাহ মৌসুমসহ সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে লেনদেনে ইতিবাচক গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে আগামীতে এই দাম আরও কমবে কি না, তা নিয়ে এখনও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে বাজুস।