বিনোদন ডেস্ক
ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৭তম আসরে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। রেড কার্পেটে তার শৈল্পিক উপস্থিতি এবং ভারত প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনে সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ব গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে নেতিবাচক মন্তব্যের একটি প্রবাহ তৈরি হয়েছে। তবে সমালোচকদের বিদ্রূপের মুখে চুপ না থেকে এবার সময়োপযোগী ও যৌক্তিক পাল্টা জবাব দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
উৎসবের বিভিন্ন পর্বে আলিয়া ভাটকে সব্যসাচী মুখার্জির ডিজাইন করা আইভরি সিল্ক শাড়ি-গাউন এবং সিনড্রেলা স্টাইলের নীল গাউনে দেখা যায়। তার এই বিশেষ পোশাক নির্বাচন এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করণ জোহর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়াসহ বলিউডের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারত প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলিয়ার উপস্থিতি বৈশ্বিক চলচ্চিত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই সাফল্যের আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল থেকে আলিয়ার উপস্থিতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওর সূত্র ধরে এক শ্রেণির ব্যবহারকারী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রীরা আলিয়াকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেননি। জনৈক ব্যবহারকারী আলিয়ার একটি পোস্টে সরাসরি উপহাস করে মন্তব্য করেন যে, সেখানে তাকে কেউ লক্ষ্যই করেনি। সাধারণত এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চললেও এবার আলিয়া অত্যন্ত মার্জিতভাবে তার উত্তর দিয়েছেন। তিনি পাল্টা মন্তব্যে উল্লেখ করেন, অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেয়ে নিজের কাজ এবং ইতিবাচকতায় মনোনিবেশ করাই শ্রেয়। তার এই শান্ত অথচ বলিষ্ঠ অবস্থান ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।
আলিয়ার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বলিউডের অন্যান্য তারকারাও। অভিনেতা অ্যালি গোনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উষ্মা প্রকাশ করে জানান, একজন শিল্পী যখন বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন তাকে নিরুৎসাহিত করা বা ছোট করে দেখা হীনম্মন্যতার পরিচয়। বিদেশের মাটিতে দেশীয় তারকাদের সাফল্যকে খাটো করে দেখার এই প্রবণতাকে নেতিবাচক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সমাজ বিশ্লেষকরাও।
চলতি বছর এটি ছিল কানের মঞ্চে আলিয়া ভাটের দ্বিতীয় উপস্থিতি। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি তার মার্জিত ফ্যাশন সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পের দূত হিসেবে তার ভূমিকা তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সমালোচকদের নেতিবাচক প্রচারণার বিপরীতে আলিয়ার এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান মূলত একজন পরিণত শিল্পীর মানসিক দৃঢ়তাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। বিনোদন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়ে শিল্পীর অবদান এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাকেই গুরুত্ব দেওয়া সমীচীন। আলিয়া ভাটের এই সফর কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ব চলচ্চিত্রে ভারতীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।