অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চলতি মে মাসের প্রথম নয় দিনে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে প্রবাসীরা ১০২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৯.১ শতাংশ। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ে সর্বমোট ৩০ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে এসেছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৪ হাজার ৯৬১ মিলিয়ন ডলারের ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বৈধ বা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে সরকারের নানামুখী উৎসাহ প্রদান এবং প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হারে নমনীয়তা এবং ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়নের ফলে হুন্ডির পরিবর্তে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। কর্মকর্তাদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। রেমিট্যান্সের এই বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক খাতের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স সংগৃহীত হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেও রেমিট্যান্স প্রবাহে গতির সঞ্চার হয়েছে। প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ কেবল সামষ্টিক অর্থনীতি নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। তবে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।