1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ডা. তাসনিম জারার, সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি চিফ হুইপের ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস: অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি বিএনপির বিজয় দিবসে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য: জুনে শুরু হচ্ছে ঋণের কিস্তি বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহ দিতে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, দুই মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা ঈদুল আজহায় সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা কমাল বাজুস বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে দেশের সেরা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ডিএসসিসি প্রশাসকের

বিজয় দিবসে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য: জুনে শুরু হচ্ছে ঋণের কিস্তি

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিমান পরিবহন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে নির্মিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। উদ্বোধনী দিনে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়নের মাধ্যমে এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি পুরোদমে সচল হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, আগামী জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের বিপরীতে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের বার্ষিক কিস্তি পরিশোধ শুরু হচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে বর্তমানে জাপান কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চলছে। টার্মিনালটি চালু হওয়ার পর যাত্রীসেবা ও কার্গো হ্যান্ডলিং খাত থেকে অর্জিত বিশাল রাজস্বের বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলমান থাকায় এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তথ্যমতে, জাপান কনসোর্টিয়াম আয়ের ২৫ শতাংশ বেবিচককে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংস্থাটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও বেশি লভ্যাংশ দাবি করছে। এই সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি করার নিয়ম রয়েছে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতায় আরও অন্তত তিন মাস সময় প্রয়োজন হবে। চুক্তি সম্পাদনের পর ‘অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ (ওরাট) কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যা সম্পন্ন করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। ফলে টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ জাপানি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা দেড় বছর আগেই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেবিচকের অনুরোধে তা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। আগামী জুন থেকে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে এই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

টার্মিনালটির পরিচালনায় কারিগরি সহায়তায় থাকবে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎস করপোরেশন ও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব থাকবে বেবিচকের হাতে। টার্মিনালটিতে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মীসহ প্রায় ৬ হাজার জনবল নিয়োজিত থাকবে।

চুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মেহবুব খান জানান, জাইকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাবটি বেবিচকের জন্য খুব একটা লাভজনক ছিল না বলে আলোচনা দীর্ঘায়িত হয়েছে। তবে বর্তমানে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য থাকলেও তার আগেই আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গুছিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিকও সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই জাপানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হবে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময় ধরে টার্মিনালটি চালুর সকল প্রস্তুতি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের টার্মিনাল ভবন নির্মিত হয়েছে। এতে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি বহির্গমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক। টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হবে। এছাড়া কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে, যা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026